Posts

“রাত ৩টার ফোন কল”

Image
আলিফ একটা নতুন ফ্ল্যাটে উঠেছে। শহরের ব্যস্ত এলাকা হলেও রাত নামলেই চারপাশটা অদ্ভুত নীরব হয়ে যায়। প্রথম রাতেই সমস্যা শুরু হলো। রাত ৩টা। হঠাৎ তার ফোন বেজে উঠল—একটা অচেনা নাম্বার। সে ধরতেই ওপাশ থেকে শুধু শ্বাসের শব্দ… “হা… হা… হা…” আলিফ রাগ করে ফোন কেটে দিল। কিন্তু ঠিক ১ মিনিট পর আবার কল। এইবার একটা কণ্ঠ বলল— “তুমি যে ঘরে আছো… এই ঘরে আগে আমি থাকতাম…” আলিফ হেসে উড়িয়ে দিল, ভেবেছিল কেউ prank করছে। পরের দিনও একই সময়ে কল আসে। তৃতীয় দিন রাতে আলিফ বিরক্ত হয়ে বলল, “কে তুমি?! কী চাও?!” ওপাশ থেকে উত্তর এলো— “আমি এখনো এই ফ্ল্যাটেই আছি… শুধু তুমি আমাকে দেখতে পারো না।” আলিফের শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল। সে ধীরে ধীরে ঘরের লাইট জ্বালাল… সব ঠিক আছে। হঠাৎ দরজার দিকে তাকিয়ে দেখল— দরজাটা একটু খোলা… অথচ সে বন্ধ করেছিল। ফোন আবার বেজে উঠল। এবার স্ক্রিনে লেখা— “তুমি এখনো একা না…” আলিফ ধীরে ধীরে পেছনে ঘুরল… কিন্তু কিছুই দেখতে পেল না। শুধু মনে হলো, তার কাঁধের পেছনে কেউ নিঃশ্বাস ফেলছে…  

“একটা ভুল নাম্বার থেকে শুরু”

Image
  রাত তখন প্রায় ১১টা। শহরের এক প্রান্তে বসে ছিল আরিফ—একজন কলেজ ছাত্র। পড়াশোনার চাপে ক্লান্ত হয়ে সে ফোনে নাম্বার ডায়াল করতে গিয়ে ভুল করে একটা অচেনা নাম্বারে কল দিয়ে ফেলে। রিং হচ্ছে… হঠাৎ ওপাশ থেকে একটা মেয়ের কণ্ঠ— “হ্যালো? কে বলছেন?” আরিফ চমকে গিয়ে বলে, “সরি… ভুল নম্বর!” কিন্তু মেয়েটা হেসে বলল, “ভুল হলেও এখন তো কথা শুরু হয়ে গেছে, একটু কথা বলবেন?” সেই এক মিনিটের কথাই ধীরে ধীরে এক ঘণ্টায় গড়াল। মেয়েটার নাম ছিল নীরা। সে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ত, স্বপ্ন ছিল লেখক হওয়ার। এরপর শুরু হলো প্রতিদিন রাতের কথা বলা। কখনো পড়াশোনা, কখনো জীবন, কখনো হাসি-ঠাট্টা—এভাবেই দুজন অচেনা মানুষ খুব কাছাকাছি চলে এলো। কিন্তু তারা কেউ কাউকে দেখেনি। একদিন নীরা বলল, “তুমি কি আমাকে কখনো দেখতে চাও?” আরিফ একটু চুপ করে বলল,

“হারানো চিঠি”

Image
 একটা ছোট গ্রামে থাকত রাকিব নামের একটা ছেলে। সে খুব সাধারণ জীবন যাপন করত, কিন্তু তার একটা স্বপ্ন ছিল—একদিন সে বড় শহরে গিয়ে কাজ করবে এবং তার মায়ের কষ্ট দূর করবে। একদিন সকালে রাকিব বাজারে গিয়ে একটা পুরনো চিঠি কুড়িয়ে পেল। চিঠিটা ভিজে গেছে, কিন্তু লেখা কিছুটা পড়া যাচ্ছিল। চিঠিটা ছিল একজন মায়ের, যিনি তার হারিয়ে যাওয়া ছেলের খোঁজ করছিলেন। রাকিব চিঠিটা পড়ে খুব কষ্ট পেল। সে ভাবল, “এই মাকে তার ছেলে খুঁজে দেওয়া দরকার।” সে চিঠির ঠিকানা ধরে খুঁজতে বের হলো। অনেক কষ্ট করে, অনেক গ্রাম পেরিয়ে সে এক বৃদ্ধা মায়ের বাড়িতে পৌঁছাল। বৃদ্ধা দরজা খুলেই কেঁপে উঠলেন। কারণ রাকিবের হাতে সেই চিঠি! তিনি কাঁদতে কাঁদতে বললেন, “তুমি কি আমার ছেলে?” রাকিব অবাক হয়ে গেল। পরে জানা গেল, সেই মায়ের ছেলে বহু বছর আগে হারিয়ে গিয়েছিল, আর সবাই বলেছিল সে আর বেঁচে নেই। কিন্তু রাকিব সত্যটা জানল—সে আসলে সেই মায়েরই হারিয়ে যাওয়া ছেলে, যাকে ছোটবেলায় এক দুর্ঘটনায় আলাদা করে ফেলা হয়েছিল। মা-ছেলে দুজনেই কেঁদে ফেলল। এত বছরের কষ্ট এক মুহূর্তে আনন্দে বদলে গেল। রাকিব বুঝল, জীবন কখনো কখনো হারিয়ে দিয়েও আবার ফিরিয়ে আনে...

hi

 ok